Temple

ঢাকেশ্বরী মন্দির

ঢাকেশ্বরী মন্দির:

ঢাকার ঐতিহ্যবাহী শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরটি রাজা বল্লল সেন ১২০০ খ্রিষ্টাব্দের কোন এক সময় নির্মাণ করেছিলেন। তৎপরবর্তী সময় থেকে আজ অবধি এই মন্দিরটি কালক্রমে ঢাকার জাতীয় মন্দির হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

১০ অরফানেজ রোড, লালবাগ, ঢাকা – ১২১১। ফোন: ৮৬১৪৯৯৫। স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম এতিমখানার পূর্ব পাশে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্যার সলিমুল্লাহ মুসলিম হলের দক্ষিণ পশ্চিমে ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের অবস্থান

নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ:

বর্তমানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এবং স্থানীয় সংসদ সদস্যসহ মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি ঢাকেশ্বরী মন্দিরটি তত্ত্ববধায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করে আসছে।

সাপ্তাহিক প্রার্থনার দিন:

শুক্রবার – মা সন্তোষীর পূজা, সময়: সকাল ১০.০০ টায়। শনিবার – শনি পূজা, সময়: সন্ধ্যা ৬.০০ টায়।

রবিবার – কীর্তন হরী সেবা, সময়: বিকেল ৫.০০ টা থেকে রাত ৯.০০ টা পর্যন্ত। সোমবার – শিব পূজা, অন্যান্য, সময়: সকাল ৭.০০ টা থেকে রাত ৯.০০ টা পর্যন্ত। মঙ্গল, বুধ ও বৃহস্পতিবার – দূর্গা মাতার অর্চনা, সময়: সকাল ৭.০০ টা থেকে রাত ৯.০০ টা পর্যন্ত।

প্রতিদিনের ধর্মীয় কার্যাবলীর সময়সূচী: উপরিউল্লিখিত প্রতিদিনের ও সাপ্তাহিক প্রার্থনা ছাড়াও প্রতিদিন দূর্গা মার পূজা অর্চনা হয় এবং প্রত্যেকদিন সন্ধ্যা ৭.০০ টায় আরতি হয়। এছাড়া শিব পূজা ও নাঠ মন্দিরেও নানারকম পূজা হয়। বলা যায় ১২ মাসে ১৩ পূজা।

প্রধান ভবনগুলো:

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের মূল ফটক দুইটি। এছাড়া মাঝখানে একটি ফটক আছে। মূল ফটকের সোজাসুজি দূর্গা মার প্রতিমা। পাশের প্রবেশ গেটের প্রবেশ পথেই নাঠ মন্দির আর একটু এগোলেই পুকুর। পাশেই আরেকটি ভবন। এখানে ৪টি শিব মন্দির আছে এবং তার পাশেই সন্তোষী মাতার মন্দির, অনুভোগের স্থান, রান্নাঘর, ফল কাটার কক্ষ, জুতা রাখার স্থান এবং পূর্ব পাশের বিশাল ভবনটি প্রশাসনিক ভবন ও কোয়ার্টার অফিস কক্ষ, গেষ্ট রুম/অতিথী কক্ষ, সভাকক্ষ, লাইব্রেরী, আনসার ক্যাম্প ও পাশেই পাবলিক টয়লেট এবং মেলাঙ্গন। প্রতিটি ভবনের উপর যেমন শিব মন্দির ও নাঠ মন্দির এ গম্বুজ আছে।

পুকুর:

ঢাকেশ্বরী মন্দিরের আরেকটি অন্যতম অংশ হল এর ভেতরে অবস্থিত পুকুরটি। যা এখনও মন্দিরের শোভা বাড়ায়। প্রাচীন এই পুকুরটিতে পূণ্যার্থীরা স্লান ও ভোগ দিয়ে থাকেন। পুকুরটির দু’পাশে বাধাই করা। এখানে বিভিন্ন প্রজাতীর ছোট-বড় মাছ আছে।

বাগান:

অতীতের তুলনায় বর্তমানে মন্দিরটিকে আরও সুন্দরভাবে সাজানো ও সংস্কার করা হয়েছে। তার মধ্যে অভ্যন্তরে ফুলের বাগানটি অন্যতম উদাহরণ। নতুনভাবে নানা জাতের ফুলগাছ দিয়ে মন্দিরটির সৌন্দর্য্যকে আরও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

মেলাঙ্গন:

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ভেতরের দিকে যে বিস্তর খালি জায়গা আছে তাকে মেলাঙ্গন হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিশেষ বিশেষ পুজোৎসব ও পহেলা বৈশাখে এখানে মেলার আয়োজন করা হয়। ঢাকেশ্বরী কর্তৃপক্ষ মেলার আয়োজন করলেও ষ্টলগুলো বহিরাগত ব্যবসায়ীরা ভাড়া নেন।

ঢাকেশ্বরী লাইব্রেরী:

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরের একমাত্র লাইব্রেরীটি প্রশাসনিক ভবনের ২য় তলায় অবস্থিত। এখানে অন্যান্য পাঠাগারের মত টেবিল-চেয়ারের ব্যবস্থা থাকলেও তা মন্দিরে আগত দর্শনার্থী বা অতিথীদের জন্য নয়। তবে এখানে ম্যানেজমেন্ট কমিটি বা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন কমিটির সদস্য ও কর্তারা এখানে বসে বিভিন্ন ধর্মীয় আলোচনা ও বিশ্লেষণ করেন। তাই এই লাইব্রেরী কক্ষটি বর্তমানে সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। এটি এখন সভাকক্ষ হিসেবে ব্যবহার হয়। তবে এই পাঠাগারে হিন্দু ধর্মীয় সকল প্রকার বই সংগ্রহীত আছে। বই সংখ্যা ৫০০ টি।

ঢাকেশ্বরীর অন্যান্য বিশেষত্ব:

অন্যান্য বিশেষত্ব গুলোর মধ্যে এ মন্দিরটি বহু পুরনো হওয়ায় এখানে বহু অতিথি ও পূণ্যার্থীদের আনাগোনা বেশী। তাই এখানে পূজা করতে আসা ভক্তরা নানারকম মানত করে প্রনামী, দক্ষিণা ও অনুদান দিয়ে থাকেন। এ সকল অনুদান শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরের অনুদান ও প্রনামী বাক্সে ফেলার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ সকল অর্থ দিয়ে মন্দিরের উন্নয়ন মূলক কাজ তথা সার্বিক তত্ত্বাবধায়নে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া এখানে প্রতিদিন দুপুরে অনুভোগের ব্যবস্থা করা হয়। দুপুর ১.০০ টা-২.০০ টার মধ্যে এ অনুভোগ চলে আগত সবার জন্য।

গাড়ি পার্কিং:

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী মন্দিরে আলাদাভাবে নিজস্ব কোন গাড়ি পার্কিং ব্যবস্থা নেই। তবে মূল ফটকের পাশে ও বাইরে রাস্তায় পর্যাপ্ত গাড়ি রাখার ব্যবস্থা আছে

জুতা রাখার ব্যবস্থা:

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের ভেতরে পূজা করতে আসা সকল দর্শনার্থীদের জুতা মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষার্থে নির্দিষ্ট স্থানে রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে। জুতা রেখে টোকেন সংগ্রহ করতে হবে। এজন্য নির্দিষ্ট হারে কোন টাকা দিতে হয় না। ভক্তরা খুশি হয়ে ৫-১০ টাকা দিয়ে থাকেন।

অনুসন্ধান কেন্দ্র ও অফিস:

শ্রী শ্রী ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরের তথ্য ও অনুসন্ধান কেন্দ্র এবং অফিসটি মন্দিরের ভেতরে প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় অবস্থিত। অনুসন্ধান একটি কেন্দ্র হলেও দুটি কক্ষে মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটি ও বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির লোক বসেন।

যোগাযোগ:

সেবায়েত প্রধান নির্বাহী

ফোন: ৮৬১৪৯৯৫; মোবাইল: ০১৭১১-১৬৯৭২০।

Leave a Reply